প্যালিয়েটিভ কেয়ারের সুফল ছড়াতে হবে সারাদেশে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

প্যালিয়েটিভ কেয়ারের সুফল ছড়াতে হবে সারাদেশে: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা: জীবন চিরদিনের নয়। সবারই আয়ু ফুরিয়ে যায়, সবাইকে চলে যেতে হয় এ পৃথিবী ছেড়ে একদিন। বিষয়টি তীব্রভাবে উপলব্ধি করতে পারেন বিশেষততারা যারা আক্রান্ত হয়েছেন, কিংবা ভুগছেন নিরাময়-অযোগ্য কোনো জটিল অসুখে। ডাক্তারি তৎপরতা ফুরিয়ে আসার পর নিরাময়-অযোগ্য অসুখে আক্রান্ত রোগীর সামনে থাকে হাতেগোনা কয়েকটা দিন। এ ভারি এক দুঃসময় রোগাক্রান্ত ওই মানুষটি আর তার পরিবারের জন্য। ঠিক এ পরিস্থিতিতেই তার পাশে এসে দাঁড়ায় প্যালিয়েটিভ সেবাদাতা চিকিৎসক, সেবক ও কর্মীরা। তাদের এই মানবিক সহায়তা আর সমর্থন রোগীর চরম দুর্দিনে কাজ করে এক আলোকশিখার মতো। শারীরিক ও সামাজিক সেবা দিয়ে তারা মানুষটির জীবনের শেষ দিনগুলোকেও করে তোলে আত্মবিশ্বাসী, আনন্দময়। এই সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার প্রতিটি মানুষের। তাই এই সেবা কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে হবে দেশের সবখানে, প্রতিটি রোগীর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে হবে এই সেবা। কথাগুলো বলেন সংষ্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

‘বিশ্ব হসপিস অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার দিবস-২০১৯’ উপলক্ষে সোমবার (২ ডিসেম্বর) থেকে তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদশর্নী, আলোচনা ও পাপেট শোসহ সাংষ্কৃতিক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দানকালে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী এক্সিবিশন হলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রদর্শনী। ‘আমার যত্ন, আমার অধিকার’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হসপিস অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার দিবস। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ার্ল্ড হসপিস অ্যান্ড প্যালিয়েটিভ কেয়ার অ্যালায়েন্স, ওয়ার্ল্ড চাইন্ড ক্যান্সার এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ নিরাময় অযোগ্য অন্তিম পর্যায়ের রোগীদের জীবনের ভোগান্তি ও সংগ্রামের গল্প নিয়ে আয়োজন করেছে ৩ দিনব্যাপী ওই আলোকচিত্র প্রদর্শনী।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি জনাব সৈয়দ সাদেক মোঃ আলীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী আয়োজনের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমেদ- প্রাক্তন বিভাগিয় প্রধান প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগ বিএসএমএমইউ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএসএমএইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনককান্তি বড়ূয়া। উদ্বোধনী অধিবেশনের পর ছিল ‘পেন্সিল’ ও জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী তপুর ‘ইয়াত্রী’ ব্যান্ডের সঙ্গীত পরিবেশনা।