আমদানি-রপ্তানি ছবির হাল কেন বেহাল

আমদানি-রপ্তানি ছবির হাল কেন বেহাল

রুহুল আমিন ভূঁইয়া

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি অর্থাৎ ‘সাফটা’ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে একাধিক ভারতীয় বাংলা ছবি আমদানি করা হয়েছে। বিনিময়ে সমপরিমাণ বাংলাদেশি সিনেমা পশ্চিম বাংলায় রপ্তানি করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে এরকম ছবি বিনিময় যে উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল তা এখন ব্যর্থ হতে চলেছে। বাংলাদেশের ছবির জন্য বিনিময় থেকে কোনো প্রাপ্তি নেই। ছবি রপ্তানি থেকে কিছুই পাচ্ছে না বাংলাদেশ! টালিগঞ্জে নির্মিত ছবি বাংলাদেশে একসঙ্গে অর্ধশত বা তারও বেশি সিনেমা হলে মুক্তি পায়। এবং বেশ ঘটা করেই করা হয় প্রচারণার আয়োজন। বিপরীতে ঢালিউডে নির্মিত ছবিগুলো কলকাতার সিনেমা হলে মুক্তি পায় নামে মাত্র। ছবিগুলো মুক্তি দেয়া হয় দায়সারাভাবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছবিগুলো মুক্তি পায় গ্রাম অঞ্চলে, বিশেষ করে বর্ডার এলাকায়। মুক্তির সময় কোনো প্রচারণাও করা হয় না।

পশ্চিমবঙ্গের আমদানিকারকরা বাংলাদেশি ছবি কেন মুক্তি দিনে অনীহা দেখান, কেন যথাযথ প্রচারণা করা হয় না এসব প্রশ্ন সিনেমাপ্রেমীদের মনে গুঞ্জরিত হলে উত্তর জানেন না বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা। চলচ্চিত্র আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ইন উইন এন্টাপ্রাইজের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দীন নওশাদ বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কিছু করার নেই। তারা টাকা দিয়ে আমদানি করে যদি ছবি ফেলে রাখে সেটা তাদের ব্যাপার। আমি তো গিয়ে ছবি চালাতে জোর দিতে পারব না। এসব নিয়ে আমদানিকারকদের প্রশ্ন করা অমূলক বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন অবমূল্যায়ন করা হয় ঢাকার ছবিকে।

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি চলচ্চিত্র প্রদর্শনের ক্ষেত্রে উদাসীনতা দূর করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশি ছবি চলে না বলা হয়। তবে ছবি চলার সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। পরীক্ষা করে দেখা উচিত। চলে না বলে বসে থাকলে তো কাজ হবে না। দুই বাংলার মানুষ একে অপরের সিনেমা দেখবেন এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না। এটা আমার বিশ্বাস। এ নায়িকা মনে করেন দুই বাংলার একসঙ্গে আরও অনেক বেশি কাজ করা উচিত।

ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতির মুখে দেশের সমস্ত সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। পরে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রদর্শক সমিতির দাবি-দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস পাওয়া গেলে অবরোধ তুলে নেয় সমিতি। এদিকে, শুক্রবার সাফটা চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশে মুক্তি পাওয়ার কথা দেব-রুক্মিণী অভিনীত কলকাতার ‘পাসওয়ার্ড’ সিনেমাটি। তার আগেই তাদের জন্য দুঃসংবাদ। নামের কারণে সেন্সর বোর্ডে আটকে গেছে কলকাতার এই সিনেমা। এখন দেখার পালা শেষমেষ ছবিটি মুক্তি পায় কিনা। সাফটা চুক্তির আওতায় পাসওয়ার্ড-এর বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গে যাচ্ছে শাকিব খান অভিনীত এবং শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত ছবি ক্যাপ্টেন খান। বুবলী, মিশা সওদাগর, সম্রাট, অমিত হাসান অভিনীত এবং ওয়াজেদ আলী সুমন পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল গেল বছরের ২২ আগস্ট।

কলকাতার সিনেমার জন্য বড় একটি বাজার বাংলাদেশ। এই বাজারে নিজেদের ছবির ব্যবসা নিশ্চিত করতে চাইছেন কলকাতার নির্মাতারা। গত কয়েক বছরে কলকাতার ডজনখানেকের বেশি ছবি আমদানি হয়েছে। যৌথ প্রযোজনা হয়েছে কয়েক ডজন। কলকাতার ছবি যতটা গুরুত্ব দিয়ে এদেশে মুক্তি পাচ্ছে, ভারতে রপ্তানিকৃত ছবিগুলো সে পরিমাণ গুরুত্ব পাচ্ছে না।