‘হস্তশিল্প বিচ্ছুরণ টেকসই উন্নয়ন’

‘হস্তশিল্প বিচ্ছুরণ টেকসই উন্নয়ন’

মিজানুর রহমান শিমুল, বরিশাল: বাংলাদেশ রূপ বৈচিত্র্যের দেশ। এদেশে অতীত কাল থেকেই হাজার ধরণের সংস্কৃতি চর্চা হয়ে আসছে। বাংলাদেশের হস্ত ও কুটিরশিল্পের এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। হস্ত ও কুটির ‘শিল্প’ মানে সুন্দর সৃষ্টিশীল কাজ। যার একটি নিদর্শন হলো ‘হস্ত ও কুটিরশিল্প’। এই নিদর্শন তুলে ধরতে ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেইজে শুরু হয়েছে হস্তশিল্প মেলা। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেইজের দ্বিতীয় ভবনের অডিটিওরমে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন ইউজিভির উপাচার্য প্রফেসর ড. জাহাঙ্গির আলম খান।

একটু একটু করে এগিয়ে আসছে শীত। প্রকৃতিতে তাই শীতল অনুভবের ছোঁয়া। গ্রামীণ জনপদে শীত অনেকটা আগে চলে এলেও নগর জীবনে শীত আসে ধীর পায়ে। এই শীতের আমেজকে ধারণ করেই ‘হস্তশিল্প বিচ্ছুরণ টেকসই উন্নয়ন’ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে বরিশাল নগরীর ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেইজে ‘ইউজিভি হস্তশিল্প মেলা-২০১৯’ আয়োজন করেছে বিজনেস ডেভেলপমেন্ট (বিডিএস)। অনুষ্ঠানে ‘ইউজিভি হস্তশিল্প মেলা-২০১৯’ এর আহবায়ক চেয়ারম্যান স্কুল অব বিজনেস, ইকোনমিক্স ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেইজ, ইলিয়াস কাঞ্চন তার স্বাগত বক্তবের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্ধোধনীয় অনুষ্ঠান।

‘ইউজিভি হস্তশিল্প মেলা-২০১৯’ এর প্রধান অতিথি উপাচার্য ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেইজ, কৃর্ষি অর্থনীতি বিদ ও মুক্তিযোদ্ধা, প্রফেসর ড. জাহাঙ্গির আলম খান বলেন, ‘একটা সময় ছিলো যখন কৃষিই আমাদের অর্থনৈতিক কর্মসংস্থানের প্রধান অবলম্বন। কালক্রমে কৃষির সেই আধিক্য হ্রাস পেয়েছে এবং শিল্পের ক্ষেত্রে আমাদের প্রাধান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এক সময় পৃথিবীর উন্নত দেশেগুলো আমাদের মতোই। তাদের শতকরা ৮০ শতাংশ আয় জিডিপি অর্জিত হতো কৃষি থেকে। এখন কোন কোন দেশে কৃষি থেকে ১.৫১ শতাংশ জিডিপি অর্জিত হচ্ছে। কাজেই আমাদের দেশেও কৃষি বহির্ভূত খাত, শিল্প খত, সার্ভিস খাত, এগুলো প্রাধান্য দিতে পারছি না। আমাদের যেভাবে কৃষি থেকে অংশিদারিত্ব হ্রাস পাচ্ছে। আমদের অর্থনিতিতে ভারী শিল্পখাত এখনো ডেভেলপ করেনি। এই ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র এবং কুটির শিল্প অনেকটা ভূমিকা রাখছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি বর্তমান জনসংখ্যার কর্মসংস্থান করতে যাই তাইলে হস্ত শিল্প সম্প্রসারিত করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ১০০টি শিল্প নগর স্থাপন করেছে। যেখানে হস্ত শিল্প, কুটির শিল্প রয়েছে। ইতিমধ্যে ৭৬টি শিল্প নগর স্থাপন কারা হয়েছে। বাকিগুলো স্থাপনের পথে। সবগুলো যদি স্থাপিত হয়ে যায় তাহলে লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। আজকে যারা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছে তাদের কর্মসংস্থান হবে এবং আমাদের বেকার সমস্যা দূর করতে আমাদের হস্ত ও কুটির শিল্প ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে চেয়ারম্যান এ- বোর্ড অব ট্রাস্টি, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেইজ, ড. ইমরান চৌধুরী বলেন, ‘হস্তশিল্প মেলা এই সময়ের জন্য খুবই একটি দরকারী আয়োজন। আমি মনে করি বাংলাদেশ থেকে যে শিল্প হারিয়ে যাচ্ছে সেই শিল্পকে আবার পুনরুজ্জিত করায় এই মেলা ভুমিকা রাখবে। এই মেলা শুধু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নয়, এই মেলা বরিশাল-এর সকল শিক্ষার্থীদের। আমাদের দেশের এই হস্ত ও কুটির শিল্পীদের উৎসহ দিতে হবে। যাতে আরো বেশি বেশি তারা পণ্য তৈরি করতে পারে। তাহলে এই শিল্প বেচেঁ থাকবে।’ হস্তশিল্প মেলায় ৩ দিন ব্যাপি রয়েছে নানান আয়োজন। মেলার সমাপনী দিন আজ। তাই বিকেল ৫ টায় সমাপনী আলোচনা এবং সন্ধ্যা ৬ টায় র্যাফেল ড্র, পুরস্কার বিতরণী ও কনর্সাট। এই তিনদিন ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেইজের ক্যম্পাস জুড়ে রয়েছে নানান রকমের সাজ সজ্জায় সজ্জিত স্টল।