আগামী সপ্তাহ থেকে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ করা হবে: ডিএমপি কমিশনার

আগামী সপ্তাহ থেকে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ করা হবে: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার) বলেছেন, মাননীয় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী কথা মতে আমরা এক সপ্তাহ নতুন সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করছি না। এই আইনটি প্রয়োগের আগে আমরা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আগামী সপ্তাহ থেকে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ করা হবে। আজ (৪ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগ’ সংক্রান্তে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন ডিএমপি কমিশনার।

আইন প্রয়োগের আগে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে জানিয়ে কমিশনার বলেন, বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে, পরিবহন মালিক শ্রমিকদের একত্রে করে তাদেরকে এই আইন সম্পর্কে ধারণা দেয়া হচ্ছে, দেয়া হচ্ছে সচেতনতামূলক লিফলেট। এছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে নিয়মিত বিভিন্ন ফিচার প্রকাশ করা হচ্ছে। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা প্রায় ৮০০ জন সার্জেন্ট ও টিআইকে নতুন আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদেরকে নতুন আইনের বই দেয়া হয়েছে। একমাস পরে তাদের পরীক্ষার মাধ্যমে আইন সম্পর্কে যাচাই করা হবে।

কেস শ্লিপের মাধ্যমে মামলা দেয়া হবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, ডিএমপিতে POS মেশিনের মাধ্যমে মামলা দেয়া হয়। নতুন আইনের জন্য POS মেশিন সফটওয়্যার আপডেটের কাজ চলছে। আমরা সামনে সপ্তাহ থেকে এ আইনটি বাস্তবায়নে যাবো। এ কারণে কেস শ্লিপের মাধ্যমে মামলা দেয়া হবে। POS মেশিন আপডেট শেষ হলে কেস শ্লিপের মাধ্যমে মামলা দেয়া হবে না।

আইনে বিভিন্ন নুতন বিধান যুক্ত হয়েছে উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, এই আইনে সাজার পরিমান উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে মানুষ সাজার ভয়ে হলেও আইন মানবে বলে আমরা মনে করি। উন্নত বিশ্বের মত এই আইনে ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে পয়েন্ট পদ্ধতি রয়েছে। আইন অমান্য করলে পয়েন্ট কমতে থাকবে। এক পর্যায়ে বরাদ্দকৃত পয়েন্ট শেষ হলে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। কন্ট্রাকটর নিয়োগ ও লাইসেন্স নেওয়ার বিধান রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও যাত্রীদের বীমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ড্রাইভিং স্কুলের মাধ্যমে ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে এই আইনে। এছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সাথে কিছু কিছু অপরাধের কারণে বিনাপরোয়ানায় গ্রেফতারের বিধান রয়েছে এই আইনে।

কমিশনার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারাত্মক আহত ও নিহত হলে থানায় মামলা হবে। ড্রাইভারের পয়েন্ট কর্তনের বিষয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে, এতে বুঝা যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের কত পয়েন্ট কর্তন হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সড়ক পরিবহন আইনে অপরাধের দায়ে কাউকে জরিমানা করা হলে, সেক্ষেত্রে আপিলের সুযোগ আছে। জরিমানার ক্ষেত্রে আমরা একটি পদক্ষেপ নিবো যে প্রথমবার কেউ অপরাধ করলে তাকে সহনীয় পর্যায়ে জরিমানা করে তাকে বলা হবে এই অপরাধে তার এতো সাজা ছিল। ভবিষ্যতে একই অপরাধ করলে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। সেই সাথে তাকে একটি সচেতনতামূলক লিফলেট দেয়া হবে।

পথচারী পারাপারের বিষয়ে কমিশনার বলেন, পথচারী ফুটওভার ব্রীজ ও জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার না হয়ে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হলে জরিমানা করা হবে। যেখানে জেব্রা ক্রসিং আছে সেখানে রাস্তা পারাপারে ট্রাফিক পুলিশ সাহায্য করবে। ‘‘আমরা মনে করি এই আইনটি বাস্তবায়ন হলে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরে পাবে। আমরা আইন প্রয়োগে সচেষ্ট থাকবো।’’