ভিলেন যখন হিরো!

ভিলেন যখন হিরো!

রুহুল আমিন ভূঁইয়া: সদ্য সমাপ্ত হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। ১৬ তম দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে প্রিয়দর্শিনী নায়িকা মৌসুমীকে হারিয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন খলনায়ক মিশা সওদাগর। এই জয়ের মধ্যে দিয়ে আবারও পুরানো নেতৃত্বে মিশা-জায়েদ প্যানেল। দ্বিতীয়বারের মতো মিশা-জায়েদের জয়ের মাধ্যমে শিল্পী সমিতির ইতিহাসে প্রথমবার পুরো প্যানেল নির্বাচিত হয়েছে। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) দিনব্যাপী উৎসব মুখর পরিবেশে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে নির্বাচন ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ থাকলেও সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সুষ্ট শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়। পুনরায় নির্বাচিত হয়ে খলঅভিনেতা মিশা সওদাগর বলেন, ‘মিডিয়াতে মৌসুমী কথা দিয়েছিলেন, যদি সে জিতে তবে আমাকে সঙ্গে নিয়েই সমিতির কাজ চালিয়ে যাবে। আর আমিও কথা দিয়েছিলাম, যদি আমি জিতে যাই তবে ওকে সাথে নিয়েই কাজ করবো। কারণ আমারা দুজনই শিল্পী ও একে অপরের ভালো বন্ধু। আমি মৌসুমীকে সাথে নিয়ে কাজ করতে চাই। মৌসুমীকে বিশেষ কমিটিতে রেখে তাকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

নির্বাচিত হবার পরের দিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মিশার একটি ছবি আলোচনায় এসেছে। ছবিটির ব্যাখ্যা দিয়ে অভিনেতা মিশা সওদাগর বলেন, ‘আমি একজন অভিনেতা। অভিনয়ই আমার পেশা। অনেক মানুষের সাথে ছবি থাকতে পারে তবে শনিবার নির্বাচত হবার পর দেখলাম একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি ছবিটি এডিট করা। আমি কোনো রাজনীতি করি না। আমার মূল পেশা অভিনয়। এরকম এডিট করা ছবি দিয়ে একজন শিল্পীর সম্মান নষ্ট করবেন না। শিল্পীদের সম্মান করুণ। বাংলা চলচ্চিত্র ভালোবাসুন।’ সাধারণ শিল্পীরা যোগ্য ও কাছের মানুষ হিসেবে আপনাকে বেছে নিয়েছেন। বিষয়টি কেমন উপভোগ করছেন? ‘অনেক ভালো লাগছে শিল্পীরা আরও একবার প্রমাণ দিয়েছে তারা আমাকে কতটা ভালোবাসে। আমি একজন অভিজ্ঞ নেতা। মৌসুমীর বুঝে শুনে আসা দরকার ছিল আমার সাথে ফাইট দিতে। যেই হোক জয় পরাজয় থাকবেই। আমরা মৌসুমীকে সাথে নিয়েই কাজ করব।’ মৌসুমীর সাথে মিশার বেশ বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব ছাঁপিয়ে নির্বাচন করেছেন। তবে নির্বাচন ঘিরে বন্ধুত্বে কোনো ভাঁটা পরেনি বলে জানান। নির্বাচনের আগে অনেক অসঙ্গতি ঘটার আশঙ্কা ছিল। সে রকম কিছুই ঘটেনি। বিপল ভোটে জয়ী হয়েছেন মিশা সওদাগর। দায়িত্বটি সম্মানের সাথেই দেখছেন। অতি সম্মানের সাথে আগামী দুই বছর শিল্পীদের জন্য কাজ করতে চান এ অভিনেতা।

বলেছিলেন নির্বাচিত হলে বাতিল সদস্যদের সদস্য পদ ফিরিয়ে দিবেন। আমরা শপদ নিয়েছি। শীঘ্রই সবাই বসে যাছাই বাছাই করে যোগ্য শিল্পীদের সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। নির্বাচনের আগে শিল্পীদের জন্য অনেক কিছু করবেন বলেছিলেন। মূলত আপনি শিল্পী। বাংলা সিনেমার জন্য কি করবেন? আমাদের সিনেমার পরিবেশ ঠিক করা দরকার। এ ব্যাপারে প্রযোজক-পরিচালক সমিতির সাথে কথা বলে সিনেমার ভালোর লক্ষ্যে চেষ্টা করব সংকট সমস্যাগুলো সমাধাণ করতে। সিনেমা হলের পরিবেশ ঠিক করতে পারলে এবং প্রতিটি জেলায় আধুনিক হল করা হলে আমার বিশ্বাস সিনেমার সু-দিন ফিরবেই। শুনলাম ‘রাজমণি’ হল বন্ধ করে মাল্টিপ্লেক্স হচ্ছে আমরা তথ্যমন্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে কথা বলব। যাতে করে সেখানে একটি সিনেপ্লেক্স তৈরি করা হয়। এবং আরো একটি বিষয়ে জোর দেওয়া দরকার ই-টিকেটিং। এটা সম্ভব হলে প্রযোজক তার লগ্নিকৃত টাকা ফেরত পাবে। একটি ছবির টাকা ফেরত পেলে আবারও সিনেমা প্রযোজনায় আগ্রহী হবে সেই প্রযোজক। আমরা শিল্পী সমিতি সব সময় সিনেমার কল্যাণে সাপোর্ট হিসেবে থাকব। সবাই মিলেমিশে কাজ করলো সিনেমার উন্নয়ন হবে।

আপনারা কোনো ইশতেহার দেননি। কিভাবে কর্ম পরিকল্পনা করছেন? ‘শিল্পীদের জন্য বড় একটি ফান্ড দরকার ও একটি হ্যান্ডসাম কল্যাণ ট্রাস্ট দরকার। এই দুটি বিষয়ের ব্যবস্থা করতে পারলে শিল্পীদের জন্য অনেক বড় উপকার হবে। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করব। শীঘ্রই তথ্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে দেখা করব। তাছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিল্পীদের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা দিবেন বলেছেন সেটি দিলে অসহায় শিল্পীদের সহযোগীতা হবে। এবং আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি করব যে অনেক সরকারি জমি পরে আছে সেখান থেকে যদি একটি জমি শিল্পীদের জন্য শিল্পীপল্লী করার জন্য দেয় তাহলে অসহায় শিল্পীদের একটি মাথা রাখার জায়গা হবে। এই দুটি কাজই বেশি জোর দিয়ে করতে চাই।’