এ সময়ে কাজল সুবর্ণ

বিনোদন প্রতিবেদক: কাজল সুবর্ণ, এই প্রজন্মের একজন দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী। ভালো ভালো বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে এবং ভালো ভালো গল্পের নাটকে ছোট বড় চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে অভিনয় করে কাজল সুবর্ণ নিজেকে আজ একটি দর্শকপ্রিয় অবস্থানে নিয়ে আসতে পেরেছেন। অথচ আজ থেকে তিন বছর আগে দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত ‘অপরাজিতা’ প্রতিদিনের ধারাবাহিকে বিপাশা চরিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়েছিলো। কথা ছিলো চ্যানেল আইতে প্রচারিত ‘সাত ভাই চম্পা’ ধারাবাহিকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করার। যে কারণে তিনি একসময় ‘চারুনীড়ম’-এ তিন মাস অভিনয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। কিন্তু সাত ভাই চম্পা’তে মনের মতো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ না পাওয়ায় সেখানে আর অভিনয়ে তার আগ্রহ জন্মায়নি। কিন্তু থেমে যাননি কাজল। কারণ তিনি জানতেন তার প্রবল আত্নবিশ্বাই তাকে এক সময় ঠিকই জায়গা করে দিবে।

অপেক্ষায় ছিলেন সুযোগের। সুযোগ চলে আসে মাহফুজ আহমেদ’র সঙ্গে ‘ইউরো জলজিরা’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার। অবশ্য তার আগে তিনি মডেলিং সম্পর্কে ধারনা লাভ করেন কিংবদন্তী আলোকচিত্র শিল্পী চঞ্চল মাহমুদের কাছ থেকে। এরপর কাজল সুবর্ণ একে একে আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় ‘আবুল খায়ের স্টিল’সহ ‘গ্লোব চকোবেয়ার’,‘ প্রাণ মিস্টার ম্যাংগো’,‘ ওয়ালটন ফ্রিজ’,‘ আইপিবিসি সিমেন্ট’,‘ ইগলু আইসক্রিম’, রানা মাসুদের ‘এসকেবি গ্যাসস্টোভ’র বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেন। কাজল ভালো ভালো প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনে কাজ করার ব্যাপারে ছিলেন বেশি আগ্রহী। যে কারণে ভালো ভালো বিজ্ঞাপনেই নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন তিনি মাহফুজ আহমেদ’র বিপরীতে ‘ফিজআপ’র বিজ্ঞাপনে। একসময় কাজল ইমরাউল রাফাতের ‘ঘুড্ডি’ নাটকে অভিনয় করেন। তবে প্রথম প্রধান নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন শাহানা হোসেনের ‘না বলা কথা’ নাটকে। এরপর তিনি ‘সুমন আনোয়ারের লতিফের বউ’, রুমান রুনির ‘বাবা’, গোলাম হাবিব লিটুর ‘একাকী মনের খেয়াল’, মোরসালিন শুভ’র ‘মিস্টার অ্যা- মিসেস এফবি’, এল আর সোহেলের ‘ম্যাজিক মজনু’, সিদ্দিকুর রহমানের ‘দাদার ভিমরতি’, হাসান রেজাউলের ‘ভালোবাসা আমি এসেছিলাম’সহ আরো বহু নাটকে। দেড় শতাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। সর্বশেষ গেলো ১৭ অক্টোবর ইউটিউবে প্রকাশিত হলো আরিফুর রহমান নিয়াজ পরিচালিত ‘আমার বৌয়ের বিয়ে’। এই নাটকে অভিনয়ের জন্যও দারুণ সাড়া পাচ্ছেন কাজল। সকাল আহমেদ’র ‘শান্তি পুরীতে অশান্তি’ ধারাবাহিকে মালিহা চরিত্রে অভিনয়ের জন্যও প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি।

কাজল বলেন, ‘আমার আম্মুর অনুপ্রেরণায় একটু একটু করে আমি আমার নিজেকে আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছি। আমার বিভিন্ন বিজ্ঞাপনের নির্মাতা, নাটকের পরিচালক এবং আমার সহশিল্পীদের সহযোগিতায় আমি নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। চেষ্টা করছি একজন পারফেক্ট মডেল হিসেবেও উপস্থাপন করতে। তবে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের আগ্রহ আগে ছিলো, এখন আর নেই। কারণ একটি চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্য অনেকটা সময় ধরে অপেক্ষা করতে হয় এবং অন্য অনেক কাজই বাদ দিতে হয়। তার চেয়ে পেশাদার হিসেবে একজন নাটকের অভিনেত্রী হিসেবে কাজ করা অনেক স্বাচ্ছন্দ্যের।’ চাঁদপুরের কন্যা কাজল নিজেকে চাঁদের দেশের মেয়ে হিসেবেই আখ্যা দিতে ভালোবাসেন।