রাত পোহালেই শিল্পী সমিতির নির্বাচন

রুহুল আমিন ভূঁইয়া: রাত পোহালেই (২৫ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে শিল্পী সমিতির ২০১৯-২০২১ দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন। এবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। শুটিংয়ের ব্যস্ততা কমিয়ে প্রার্থীরা ভোট চেয়ে সাধারণ শিল্পীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম বিএফডিসি প্রাঙ্গন। বিএফডিসিতে শিল্পীদের দেখা মেলে কালেভদ্রে। সেই নির্বাচন উপলক্ষে প্রায়ই ধূয়াসার ধ্রুবজাল ছড়িয়ে পড়ছে চলচ্চিত্রের সব অঙ্গণে। প্রায় কাঁদা ছুড়াছুড়ি করছেন একে অপরের দিকে। কিছু চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে রীতিমত এখানে তামাশায় পরিণত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে মিশা সওদাগরের বিপরীতে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস কোবরা। চলচ্চিত্রাঙ্গনে যারা খোঁজ-খবর রাখেন তাদের অনেকেরই জানা- মৌসুমীর সঙ্গে মিশা সওদাগরের দীর্ঘ দিনের বন্ধুত্ব। তবে সেই পরিচয়কে ছাপিয়ে এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী তারা। এখন দেখার অপেক্ষায় শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্বে কারা আসে।

নির্বাচনের শুরু থেকে মৌসুমী একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, তার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নাকি বাঁধা দেয়া হচ্ছে, একটি অদৃশ্য চাপ প্রয়োগও করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি প্রার্থী মিশা সওদাগর বলেন, ‘আমি স্বতস্ফুর্তভাবে বলতে চাই- একজন শিল্পীর হতে হবে সৎ এবং সাহসী। শিল্পীদের বড় শক্তি লাখো লাখো ভক্ত। মৌসুমীর মতো শিল্পীকে কেউ আঙ্গুল তুলে কথা বলবে এমন সাহস কারো নেই। যে শিল্পী তার সমস্যার কথা বলতে পারে না, কে বা কারা তাকে বাঁধা প্রদান করছে? কে তাকে প্যানেল করতে দেয়নি? নিজের সমস্যার কথা তাকেই মুখ ফুঁটে বলতে হবে। কে এই অদৃশ্য শক্তি? নাম না বলে বিচ্ছিন্নভাবে কথা বললে এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি থাকে না। তার অভিযোগ ভিত্তিহীনই রয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশা করছি সকলের অংশগ্রহনে আগামীকাল শান্তিপূর্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পুনরায় নির্বাচিত হলে শিল্পীদের জন্য কি করবেন? ‘পুনরায় নির্বাচিত হলে দুস্থ শিল্পীদের জন্য অল্প জায়গার মধ্যে হলেও আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করব। এছাড়াও সিঙ্গেল যে হলগুলো রয়েছে সেগুলো কিভাবে উন্নত করা যায় সে ব্যাপারে হল মালিকদের সহায়তা করা হবে। কারণ হল বাঁচলেই সিনেমা বাঁচবে, সিনেমা বাঁচলেই শিল্পীরা বাঁচবে। একটি ফান্ড করা হবে যেকোনো ব্যাংকে। কোনো শিল্পী যদি বিপদে পড়ে তাহলে ওই ফাণ্ডের ইন্টারেস্ট থেকে সহযোগিতা করা হবে।

সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জায়েদ খান বলেন, ‘আবার যদি নির্বাচিত হই প্রথম পদক্ষেপ হবে শিল্পীদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা। যেটা দুই বছরে সম্ভব হয়নি। আমার মনে হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটা চাইলেই হয়ে যাবে। আমরা তাঁর সঙ্গে দেখা করে এটা চাইবো। শিল্পীরা কারো কাছে হাত পাততে চায় না। খুব অভিমানী তারা। শিল্পীরা কাজ চায়।’

উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর ২০১৯-২১ মেয়াদের শিল্পী সমিতির আসন্ন নির্বাচনের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকা থেকে জানা যায়, সভাপতি পদে লড়াই করছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী ও খলনায়ক মিশা সওদাগর। সহসভাপতির দুটি পদে প্রার্থী হয়েছেন মনোয়ার হোসেন ডিপজল, রুবেল ও নানা শাহ। সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানের প্রতিদ্বন্দ্বী ইলিয়াস কোবরা। সহসাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন আরমান ও সাংকো পাঞ্জা। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অভিনেতা সুব্রতর বিপরীতে কোনো প্রার্থী নেই। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে লড়ছেন নূর মোহাম্মদ খালেদ আহমেদ ও চিত্রনায়ক ইমন। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে একাই রয়েছেন জ্যাকি আলমগীর। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে লড়বেন জাকির হোসেন ও ডন। কোষাধ্যক্ষ পদে অভিনেতা ফরহাদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। অর্থাৎ সুব্রত, জ্যাকি, আলমগীর ও ফরহাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদ সদস্যের ১১টি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন ১৪ জন। তাঁরা হলেন অঞ্জনা সুলতানা, রোজিনা, অরুণা বিশ্বাস, আলীরাজ, আফজাল শরীফ, বাপ্পারাজ, রঞ্জিতা, আসিফ ইকবাল, আলেকজান্ডার বো, জেসমিন, জয় চৌধুরী, নাসরিন, মারুফ আকিব ও শামীম খান (চিকন আলী)।